তার মতে, সরকারের নীতিগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এখানকার অর্থনীতি আরো বড় হবে। ফলে ভবিষ্যতে এমন সময় আসবে, যখন বাংলাদেশ নিজেই কোরিয়ান কোম্পানিগুলোকে আরো বিনিয়োগ ও উৎপাদনের জন্য আহ্বান জানাবে।
নরসিংদীর শিবপুরে গতকাল ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের স্যামসাং উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন শেষে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে রাস্ট্রদূত এ কথা বলেছেন। এ সময় আরো বক্তব্য দেন স্যামসাং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাংমিন জাং ও ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফেয়ার গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন।
কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, ‘কারখানাটিতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করছেন এবং সেখানে শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পরিশ্রম করার প্রবল মানসিকতা রয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরো শক্তিশালী করে। বাংলাদেশের পরিশ্রমী শ্রমশক্তি, কোরিয়ান কোম্পানি এবং ব্যবসায়িক নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করলে মানুষের কল্যাণ ও উচ্চ আয়ের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।’
এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যদি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করে, তাহলে স্যামসাং বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করবে। ভবিষ্যতে একদিন সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিও বাংলাদেশে আসতে পারে।’
করনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত জনগণের ওপর করের চাপ না বাড়িয়ে সঠিকভাবে কর আদায় নিশ্চিত করা এবং ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা।’
ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব জানান, কারখানাটি কোরিয়ান ব্র্যান্ড ও বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ সহযোগিতার প্রতিফলন এবং দেশের শিল্পোন্নয়নকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, ‘স্যামসাং, এসকে হাইনিক্সসহ বিভিন্ন কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান সেমিকন্ডাক্টর, প্রযুক্তি ও ইস্পাতসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ৫০-৬০ বছর আগে বাংলাদেশ ও দ. কোরিয়া প্রায় একই অবস্থানে থাকলেও সীমিত সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশটি বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। বাংলাদেশও সেই পথেই এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।’ এজন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান।
ফেয়ার গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন জানান, বর্তমানে কারখানাটিতে স্যামসাং ও হাইসেন্স ব্র্যান্ডের সম্পূর্ণ রেফ্রিজারেটর উৎপাদন করা হচ্ছে। ২০২৭ সালে দুটি ব্র্যান্ড মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ ইউনিট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, কারখানাটিতে সেপ্টেম্বর থেকে ওয়াশিং মেশিন ও জানুয়ারি থেকে মোবাইল ফোন উৎপাদন শুরু হবে। আর ২০২৭ সালের শুরুতে এসি ও টিভি উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘এ কারখানায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মোবাইল ফোন উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। বর্তমানে উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হলেও ভবিষ্যতে রফতানি করাই লক্ষ্য।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্যামসাং বাংলাদেশের এমএক্স বিজনেস পরিচালক ড্যানিয়েল রি, কনজিউমার ইলেকট্রনিকস বিজনেসের পরিচালক শাহরিয়ার বিন লুৎফর, ফেয়ার গ্রুপের পরিচালক সেলিম রেজা, হেড অব মার্কেটিং জেএম তসলিম কবীর, ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের হেড অব বিজনেস মশিউর রহমান, দক্ষিণ কোরিয়া দূতাবাসের থার্ড সেক্রেটারি হিওন চো এবং সিনিয়র স্পেশালিস্ট (পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স) জিওন পার্ক।